সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলে কবে থেকে কার্যকর হবে? একটি মহল চেষ্টা করছে গণতান্ত্রিক শক্তি যেন ক্ষমতায় না আসে : মির্জা ফখরুল বর্জ্যে ভুগছে টাঙ্গুয়ার হাওর হাওরের ফসল রক্ষায় প্রায় চূড়ান্ত ২,২৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প সুনামগঞ্জ মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র বরাদ্দের অভাবে বন্ধ নির্মাণকাজ ইশতেহার তৈরি করছে বিএনপি, গোপনে চলছে প্রার্থী যাচাই সভাপতি ও সম্পাদক পদে লড়ছেন চারজন জন্মদিনে শুভেচ্ছায় সিক্ত কবি ইকবাল কাগজী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ আর নেই প্রাথমিকে এক হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম শৃঙ্খলা ফিরছে না টাঙ্গুয়ার হাওরে গ্রাম আদালতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে : জেলা প্রশাসক শুভ জন্মদিন কবি ইকবাল কাগজী ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্সের আকৃতি দিয়ে চলছে রোগী পরিবহন শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা নিতে হবে মানা হচ্ছে না নির্দেশনা : টাঙ্গুয়ার হাওরে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা চলছেই নানা সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়, পাঠদান ব্যাহত ঋণের চাপে বাড়ি ছাড়া, ফিরছেন লাশ হয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ১৫ প্রাথমিক শিক্ষকরা গ্রামে থাকতে চান না, শহরে বদলি হতে চান : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

অকেজো নৌ-অ্যাম্বুলেন্স : হাওরবাসীর সঙ্গে নির্মম পরিহাস

  • আপলোড সময় : ২৩-০৮-২০২৫ ০৯:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০৮-২০২৫ ০৯:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন
অকেজো নৌ-অ্যাম্বুলেন্স : হাওরবাসীর সঙ্গে নির্মম পরিহাস
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল চারদিকে পানি বেষ্টিত দ্বীপ-গ্রামসমূহের সমষ্টি। বর্ষার দীর্ঘ মাসগুলোতে এসব এলাকায় সড়কপথ অচল হয়ে পড়ে। জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সেবা গ্রহণের একমাত্র ভরসা তখন জলপথ। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারটি আধুনিক নৌ-অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল- প্রত্যন্ত হাওরবাসীর জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, একদিনের জন্যও সেগুলো ব্যবহার হয়নি। সরকারি প্রকল্পের এই চরম ব্যর্থতা কেবল অর্থের অপচয় নয়, বরং হাওরাঞ্চলের অসহায় মানুষের সঙ্গে এক নির্মম পরিহাস। ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সরবরাহকৃত নৌ-অ্যাম্বুলেন্সগুলো অযতœ-অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। যন্ত্রাংশ অকেজো, কোনোটি থানার সামনে, কোনোটি নদীতে কিংবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে মরিচা পড়ে অচল অবস্থায়। চালক নিয়োগ হয়নি, জ্বালানি বরাদ্দ আসেনি, ফলে জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত স¤পদ একেবারেই অচল পড়ে আছে। এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতার নজির সত্যিই বেদনাদায়ক। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা কখনো এসব নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চোখেই দেখেননি; বরং অসুস্থ রোগীকে এখনও ভাড়া করা ছোট নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে নিতে হয়। আর্থিকভাবে বিপুল ব্যয়ের পরও যখন মানুষের উপকারে আসে না, তখন এ ধরনের উদ্যোগ কেবল দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ বহন করে। প্রশ্ন জাগে- চালক ও জ্বালানি বরাদ্দ নিশ্চিত না করেই কেন এত ব্যয়বহুল নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হলো? কেন এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কোনো নিশ্চয়তা রাখা হলো না? এর দায় কি শুধু স্থানীয় প্রশাসনের, নাকি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তহীনতারও? জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেন এমন অকার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, যার সুফল মানুষ পাবে না? এখনও সময় আছে। নৌ-অ্যাম্বুলেন্সগুলো যদি মেরামত করে চালু করা সম্ভব না হয়, তবে বিকল্পভাবে কম খরচে চলনসই ইঞ্জিনচালিত নৌকা স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহারযোগ্য করা যেতে পারে। একই সঙ্গে চালক নিয়োগ, জ্বালানি বরাদ্দ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের প্রকল্প জনগণের আস্থাহীনতা আরও বাড়াবে। হাওরাঞ্চলের মানুষ রাষ্ট্রের নাগরিক, তাদের স্বাস্থ্যসেবার অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। আমরা এ অব্যবস্থাপনার দ্রুত প্রতিকার চাই। জনগণের ট্যাক্সের টাকা যেন প্রকৃতপক্ষে জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হয় - এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বর্জ্যে ভুগছে টাঙ্গুয়ার হাওর

বর্জ্যে ভুগছে টাঙ্গুয়ার হাওর